Thursday, August 16, 2018
সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ মহাসড়কে সিএনজি চালকদের কাছে জিম্মি যাত্রী
সিলেট
জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন ৭০৭ এর অন্তর্ভুক্ত ফেরিঘাট ও হুমায়ুন চত্বর স্ট্যান্ডের অটোরিক্সা চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার যাত্রী সাধারণ।
জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন ভার্সিটির শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ফেরিঘাট অটোরিক্সা স্ট্যান্ড হয়ে সিলেট শহরে যাতায়াত করেন। আবার জরুরী কাজ শেষ করে ফিরে আসেন ফেঞ্চুগঞ্জ। তবে অভিযোগ রয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জের ফেরিঘাট স্ট্যান্ড থেকে কোন লোকাল অটোরিক্সা সিলেটে যায় না। একমাত্র ৩০০-৪০০ টাকা রিজার্ভ ছাড়া সিলেটে যায় না কোন অটোরিক্সা। ঘন্টার পর ঘন্টা প্রচন্ড গরমে রোদে পুড়ে অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। ফেরিঘাট স্ট্যান্ডে মাঝেমধ্যে সিলেট থেকে কোন অটোরিক্সা আসলে সেই অটোরিক্সা দিয়ে সিলেট শহরে যাতায়াত করেন যাত্রীরা।
ফেঞ্চুগঞ্জের ফেরীঘাট অটোরিক্সা স্ট্যান্ডের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে আমাদের স্ট্যান্ড থেকে হুমায়ুন চত্বর স্ট্যান্ডে কোন গাড়ি যায় না। সিলেটে অটোরিক্সা না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শুরু হয় ফেরিঘাট স্ট্যান্ডের চালক ওমর কল, রবিন্দ্র দাস, নোমান মিয়ার চাপাক্ষোভের প্রকাশ। তাঁরা বলেন, হুমায়ুন চত্বর স্ট্যান্ডের চালকরা যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে প্রায় সময় খারাপ আচরণ করে ও নিয়ম অনুযায়ী গাড়ির সিরিয়াল দেন না। লোকাল যাত্রী নিয়ে ফেরিঘাট স্ট্যান্ড থেকে সিলেট সকালে গেলে আসতে হয় বিকেলে। হুমায়ূন চত্বরের শ্রমিক নেতা ও চালকরা নিয়মনীতি মেনে গাড়ির সিরিয়াল দেন না। তাঁরা তাদের নিজেদের স্ট্যান্ডের গাড়িগুলাকে আগে সিরিয়াল দেন। এছাড়া অভিযোগ করেন, হুমায়ূন চত্বরের অটোরিক্সা চালকরা যাত্রীদের সঙ্গে সামান্য বেশি মালামাল দেখলে রিজার্ভ ছাড়া যান না। চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা সেতুর টোল আদায় করা হচ্ছে। আমরা অতিরিক্ত গ্যাস বিল ও টোল ভাড়া দিয়ে সিলেটে যাওয়া-আসা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে এজন্যও সিলেটে কেউ লোকাল যেতে চায় না।
তবে এ ব্যাপারে দ্বিমত প্রকাশ করেন হুমায়ুন চত্বর স্ট্যান্ডের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমদ। মনির আহমদ বলেন বিগত তিনমাস আগে ফেরীঘাট স্ট্যান্ড থেকে কে বা কারা আমার মোবাইল ফোনে কল করে জানায়, ফেরীঘাট স্ট্যান্ডের কোন গাড়িকে যেন হুমায়ুন চত্বর স্ট্যান্ডে সিরিয়াল না দেওয়া হয় এবং আমরা আপনাদেরকেও সিরিয়াল দেব না।
সিলেট ইসলাম অফসেট প্রেসের কর্ণধার নুরুল ইসলাম কিবরিয়া ও নাহিদ ভেরাইটিজ ষ্টোরের মালিক সামাদ আহমদ বলেন, প্রতিদিন আমরা ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে সিলেট যেতে হয় ব্যবসায়ী কাজে, আবার সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জে আসতে হয়। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন অটোরিক্সা না যাওয়ায় প্রতিদিন সিলেট যেতে হলে ফেরিঘাট স্ট্যান্ডে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment